প্রকাশিত: ০৪/০৬/২০১৭ ১:১৮ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:০৪ পিএম

শফিক আজাদ,উখিয়া নিউজ ডটকম::
ঘূর্ণিঝড়ে ‘মোরা’র প্রভাবে উখিয়া উপজেলার ৫ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতি সাড়ে ৮হাজার পরিবার মাঝে ৬দিন অতিবাহিত হলে গেলেও এখনো পৌছেনি এক মুঠো চাউল বা ত্রান। যার ফলে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে অনেক পরিবার। অথচ একই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ উখিয়ার লাগোয়া উপজেলা টেকনাফে ইতিমধ্যে ৪০মেঃ টন জিআর চাউল বরাদ্দ পূর্বক বিতরণ করা হয়েছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বললেন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য ৩ মেঃ টন চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে যেগুলো সংশ্লিষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদে পাঠানো হয়েছে। এসব চাল দ্রুত সময়ের মধ্যে ৫ইউনিয়নের বিতরণ করা হবে সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ মে) রাত সোয়া ২টা থেকে শুরু হওয়া মোরা আঘাতে উখিয়ার ৫ইউনিয়নে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রেরিত ৫ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ থেকে দেখা যায়। জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৫শতাধিক বসতবাড়ী বিধ্বস্থ হয়ে ক্ষতির সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি আংশিক ক্ষতি মুখে পড়েছে দেড় হাজার পরিবার। এছাড়াও সুপারি গাছ, পানের বরজ, কৃষি খামার মিলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৭কোটি টাকা। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়েছে ২শ বসতবাড়ী, আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে সাড়ে ৫শতাধিক বসতবাড়ী। তাছাড়া সুপারি গাছ, পানের বরজ, কৃষি খামার মিলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩কোটি টাকা। রতœাপালং ইউনিয়নে দেড় শতাধিক বসতবাড়ী মোরার প্রভাবে ধ্বসে পড়েছে এবং ৭শতাধিক পরিবার আংশিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আর সুপারি গাছ, পানের বরজ, কৃষি খামার মিলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ২কোটি টাকা। পালংখালী ইউনিয়নে সম্পূর্ণ উপড়ে পড়ে নষ্ট হয়েছে ২’শত বসতবাড়ী আর আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৬শতাধিক বসতবাড়ী। পাশাপাশি সুপারি গাছ, পানের বরজ, কৃষি খামার ও ২হাজার একর ঘের প্লাবিত হয়েছে। পালংখালীতে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১০কোটি টাকা। রাজাপালং ইউনিয়নে মোরা আঘাতের সম্পূর্ণ তচনচ হয়েছে ১৬৮০ বসতবাড়ী। এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৩৫০টি বসতবাড়ী। এর সাথে সুপারি গাছ, পানের বরজ, কৃষি খামার মিলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৮কোটি টাকা। সর্বমোট ৫০ কোটি টাকা ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে উখিয়ায়।
রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্বডিগলিয়াপালং গ্রামের ছব্বির আহমদ (৪৫) বলেন, ঘুর্ণিঝড়ে আমার বাড়ী সম্পূর্ণ বিধ্বস্থ হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মীর সাহেদুল ইসলাম চৌধুরী রুমান ছাড়া কেউ পরির্দশন করেনি এবং এখনো পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। একই অভিযোগ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোরা’র তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য এ পর্যন্ত ৩ মেঃ টন চাউল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বরাবরে উখিয়ার চাহিদা দেওয়া হয়েছে ৩০ মেঃ টন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহাযার্থে মহেশখালীতে ৩৭ মেঃ টন, কুতুবদিয়ায় ৩০ মেঃ টন, পেকুয়া ১০ মেঃ টন, টেকনাফ/সেন্টমার্টিন/শাহপরীরদ্বীপে ৪০ মেঃ টন, কক্সবাজার পৌর সভায় ১৫ মেঃ টন এবং চকরিয়ায় ১৫ মেঃ টন জিআর চাউল বরাদ্দ দেওয়া হলেও উখিয়ার জন্য মাত্র ৩ মেঃ টন।

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়োগ, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও উত্তীর্ণ!

কক্সবাজারে স্বাস্থ্য সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা ...

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে ৮.৮ ডিগ্রি, টেকনাফে সর্বোচ্চ ৩১

শীতের তীব্রতা বাড়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে দেশের ...